ভূমিকা

গ্রাম-শহরের শ্রমজীবি দরিদ্র নর-নারী ও প্রান্তিক পেশাজীবি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পাড়া/মহল্লা/গ্রামভিত্তিক সভা, উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, উপানুষ্ঠানি ক শিক্ষা কার্যক্রম প্রভৃতির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সংগঠন গড়ে তোলার প্রক্রিয়া সূচিত হয়। আরবানের কর্মএলাকার শ্রমজীবি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উক্ত প্রক্রিয়ায় আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ প্রভৃতি বিষয়ে অবহিত ও সচেতন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে স্বনির্ভর করার জন্য ১৫-২০ সদস্য বিশিষ্ট প্রাথমিক সংগঠন বা সমিতি গঠন করা হয়।
আরবান বিশ্বাস করে, শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই মানুষ নিজেদের অথবা সমষ্টিগতভাবে উন্নতি ত্বরান্বিত করতে পারে না। চেতনা বিকাশের পাশাপাশি থাকতে হবে অর্থনৈতিক সহায়তা। ব্যক্তি মানুষ কিংবা সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতি ও বিকাশের জন্য ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা জরুরী। আশা করা হয় যে, সংগঠিত সমিতিগুলো নিয়মিত সভা করবে। সমিতির সদস্যগণ তাঁদের আর্থ-সামাজিক সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করবেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন। নিজেদের তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে সঞ্চয় তহবিল গঠন করবেন এবং ছোট ছোট অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করবেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত আরবান গণ উন্নয়ন সমিতি গঠন করে। সমিতির লক্ষ্য হচ্ছে, একটি শক্তিশালী গণ সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসনকে গণমূখী ও জনকল্যাণকামী করার আন্দোলন-সংগ্রামে সহায়ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
মহিলা সদস্যবৃন্দ তাঁদের বর্ধিত আয় এবং ঋণের টাকাকে যথাযথভাবে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। আরবানের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার মধ্যে পুরুষ ও মহিলা দুই পক্ষই রয়েছে। এসব ঋণ গ্রহিতারা তাঁদের ঋণের টাকা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে বিনিয়োগ করে থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র হওয়ায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ থেকে তাঁরা বঞ্চিত থাকায় কিংবা প্রতিষ্ঠান উৎস থেকে ঋণ পেতে অহেতুক হয়রানীর শিকার হওয়ায় এনজিও প্রদত্ত ক্ষুদ্র কিংবা মাঝারী ঋণের প্রভাব ইতিবাচকভাবে লক্ষ্য করা যায়। গ্রাম ও শহরের দরিদ্র, শ্রমজীবি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নর-নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করার ক্ষেত্রে আরবানের সঞ্চয় ও ঋণ সহায়তা কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।