Message From Coordinator

image

বাংলাদেশ শত শত বছর ধরে বিদেশী দখলদারদের অধীনে ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানের পরও বাংলাদেশের জনগণ ২৩ বছরকাল পাকিস্তানী শাসকদের দ্বারা অব্যক্ত দুঃখ-বেদনা, অর্থনৈতিক শোষণ-বঞ্চনা, সামাজিক অন্যায্যতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হত্যা, নির্যাতন ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ণ ভোগ করে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র জাতি পাকিস্তানী দখলদারদের বিরুদ্ধে নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর সার্বভৌম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্বপ্রকাশের পর বাংলাদেশ জনগণের দুঃখ-কষ্ট-দূর্দশা লাঘব ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে খাদ্য ও প্রকল্প সাহায্য এবং ঋণ হিসেবে প্রচুর অর্থ গ্রহণ করে। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি দেশীয় ও বৈদেশিক অনেক উন্নয়ন সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জনগণের ক্ষুধা, দারিদ্র ও দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতদসত্তে¡ও গণমানুষের দূর্ভোগ দূর হয়নি ও কমেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র, অপুষ্টি, রোগ-ব্যাধি, বেকারত্ব এখনও দেশে বিদ্যমান রয়েছে।

আরবান বিশ্বাস করে যে, সরকার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের শাখাসমূহ ও এনজিও দ্বারা পরিকল্পিত ও গৃহীত সকল প্রকার উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচি দুঃখ-দারিদ্র, দূর্ভিক্ষ, অপুষ্টি, রোগ-ব্যাধি, বঞ্চনা, শোষণ-নির্যাতন রোধ এবং চির অবসানের জন্য বাস্তবায়িত হওয়া অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ কোনক্রমেই একটি দরিদ্র দেশ নয়, বরং এদেশকে দরিদ্র ও দূর্বল করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সৎ, পরিশ্রমী কৃষক-শ্রমিক, উর্বর পলিমাটি, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, জলাশয় ও বনাঞ্চল সমৃদ্ধ একটি দেশ। আরবান বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের জনগণ সম্পদের অভাবে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন নন বরং সম্পদের উপর তাঁদের মালিকানা, অধিকার ও অভিগম্যতা না থাকার কারণেই দেশে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষের সংখ্যা বেশী।